নেত্রকোণা: একটানা বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী, উব্দাখালি নদীর পানি বেড়েছে। অপরদিকে হাওর অঞ্চল মোহনগঞ্জের কংস,ধলাই ও খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদীর পানি ও বেড়েছে। হাওরে পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে বোর ধান। শ্রমিক সংকট, বজ্রপাতের আতঙ্কে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত খালিয়াজুীর ধনু নদে চার ফুটের বেশি পানি বেড়ে গেছে। অপরদিকে সীমান্তবর্তী কলমাকান্দার, উব্দাখালি ও দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীতেও পানি বেড়েই চলেছে।
এদিকে জেলার শস্যভাণ্ডার নামে পরিচিত খালিয়াজুরীর চুনাই হাওর, বাইদ্যার চর, কাটকাইলেরকান্দা, নন্দের পেটনা, কীর্তনখোলা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাছে পানি প্রবেশ করেছে।
ঠিক এরকম সময়ে যখন দ্রুত ধান কাটা প্রয়োজন, তখন শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি দ্বিগুণ হওয়ায় ধান সময়মতো কাটতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। যে কোনো সময় অতিরিক্ত পানি বেড়ে গিয়ে কৃষকের হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১৩৪ টি হাওর রয়েছে। সবচেয়ে বড় মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরের ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। বাইরের এলাকার শ্রমিক না আসার কারণে শ্রমিক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের এই দুর্দিনে দুর্বৃত্তরা পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে নির্বিচারে। ডিঙ্গাপোতা হাওর পাড়ের খুরশিমূল গ্ৰামের কৃষক প্রদীপ দাস জানান, তার ৪০ কাঠা জমিতে পেকে যাওয়া তিন থেকে সাড়ে তিনশ মণ বোর ধান কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
একই গ্ৰামের প্রান্তুষ দাস জানান, তার সাত কাঠা জমির ধান দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়ে গেছে। এখন সুদের ওপর টাকা এনে পরিবার চালাতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন বোর ধান। এখন পর্যন্ত জেলার অর্ধেকের বেশি জমির বোর ধান কাটা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।