Monday 04 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাগেরহাটে প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৪ বছর ধরে তালা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৩ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৩

তালাবন্ধ হয়ে পড়ে আছে প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

বাগেরহাট: জেলার ফকিরহাটে সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এক সময়ের সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানটি এখন অযত্ন ও অবহেলায় ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ভবন ও যন্ত্রপাতির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ এখন শুধুই ফাইলবন্দি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন মূলঘর এলাকায় ৩ একর ৬০ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। দীর্ঘদিনের অযত্নে পুরো এলাকা ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়েছে। শ্যাওলা ও লতাপাতায় ছেয়ে গেছে ভবনগুলো। মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, টেইলারিং ও হাঁস-মুরগি পালন এই তিনটি ট্রেডের জন্য আনা লেদ মেশিন, গ্রাইন্ডিং মেশিনসহ প্রায় ২১ ধরনের মূল্যবান যন্ত্রপাতি মরিচা ধরে অকেজো হয়ে পড়েছে। গ্যারেজে থাকা ট্রাক ও গাড়িও নষ্ট হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

​১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি ২০১২ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার আগে এখান থেকে ৩১৯ জন প্রতিবন্ধী যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছিলেন।

স্থানীয় ও সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির মূল সমস্যা আবাসিক ভবনের অভাব। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটি আংশিক সংস্কার করা হলেও আবাসিক হোটেলটি বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। ২০১৬ সালে জেলা নিলাম কমিটি ভবনটি অপসারণের সুপারিশ করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেওয়া হলেও মেলেনি কোনো সুরাহা।

প্রতিষ্ঠানটির দাফতরিক কার্যক্রমেও রয়েছে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা। ফকিরহাটে অবস্থিত হলেও এর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। দূরত্বের কারণে নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি সম্ভব হচ্ছে না।

অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এখানে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সবাই অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে মাত্র একজন আবাসিক প্রশিক্ষক দায়িত্বে আছেন, তিনিও আগামী মাসে অবসরে যাচ্ছেন।

​প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালুর আশায় বছরের পর বছর পার করছেন স্থানীয় প্রতিবন্ধী যুবকরা।

আসলাম হোসেন নামের এক যুবক জানান, ২০ বছর বয়স থেকে তিনি এই কেন্দ্র চালুর অপেক্ষায় আছেন, এখন তার বয়স ৩৪। তার মতো অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখলেও তা এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস।

​এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সন্তোষ কুমার নাথ বলেন, “আমি নিজে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। আবাসিক ভবনের সংকটের কারণেই মূলত কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। ভবন পাওয়া গেলে এবং যন্ত্রপাতি মেরামত করা সম্ভব হলে কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা যাবে। জনবল ও ভবনের অনুমোদনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত চিঠি পাঠানো হচ্ছে।”

​সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র ফাইলবন্দি চিঠিতে আটকে না রেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই কেন্দ্রের মাধ্যমে শত শত প্রতিবন্ধী যুবক দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে পারবে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর