Monday 22 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘তারেক রহমানের মতো প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীতে এসেছেন কি না, আমি আর দেখছি না’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ জুন ২০২৬ ১৭:১৬ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৭:২৩

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন।

নোয়াখালী: শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, আমরা তারেক রহমানের মত একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। আমি জানি না, আমার এই বয়সে বিশ্ব পরিমণ্ডলে তারেক রহমানের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীতে এসেছেন কি না, আমি আর দেখছি না।’ এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর ২টার দিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন এবং ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেটে সবচেয়ে বেশি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসার প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে শিক্ষা। আপনারা তাকে জিজ্ঞেস করুন যে তার সবচেয়ে ফেভারিট ডিপার্টমেন্ট কোনটি, তিনি বলেবেন শিক্ষা। দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বারও যদি জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি কোন ডিপার্টমেন্টকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চান, তিনি বলবেন শিক্ষা।’

বিগত দুই সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা শিক্ষকরা মে-জুন মাসের বেতন পাচ্ছেন না। ২০১৭ সালে একটি ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রজেক্ট (ইটিএফ) হাতে নেওয়া হয়েছিল। ১০ কোটি টাকার প্রজেক্ট এসে দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি টাকায়। কিন্তু প্রজেক্ট শেষ হয়না। গত ইন্টেরিম সরকার ১৭ হাজার মাদরাসা শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু অটোমেটিক ফান্ড ট্রান্সফার প্রোগ্রাম না থাকায় কী পরিমাণ টাকা মাদরাসার শিক্ষকদের বেতনের জন্য বরাদ্দ করতে হবে, তারা বোঝেননি। প্রতিমাসে ৫০০ কোটি টাকার ওপরে মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজন হয়। এই শিক্ষক নিয়োগ দিতে গিয়ে তাদের বেতনের ব্যবস্থা করা হয়নি। আমাদের কাছে ১০০ কোটি টাকা ছিল, ওই টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। জুলাই মাসে এসে সকলের বেতন পরিশোধ করব। একবার ভেবে দেখুন, একজন মাদরাসা শিক্ষক প্রতিমাসে বেতন পায়। এক মাস বেতন না পেলে তার কী পরিমাণ ভোগান্তি হয়। বিগত সরকারগুলো না করল ইটিএফ, না করল অ্যালোগেইট মানি, যে এই বাজেটে এতো টাকা দরকার। এভাবে সরকার চালিয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার জন্য ব্যাপক কাজ করছেন। কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রুপান্তর করতে হবে। এই জনসংখ্যা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে আমাদের আয় বহুগুণ বেড়ে যেত। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে কীভাবে গুরুত্ব দেওয়া যায়, সেই বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৪৯ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে কেক কেটে, পায়রা উড়িয়ে ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর