Thursday 30 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নোয়াখালী সরকারি কলেজে ভাঙচুর ও শিক্ষক হেনস্তা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:১২ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৭

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা।

নোয়াখালী: নোয়াখালী সরকারি কলেজে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কলেজ ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দু’টি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক পরিষদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ ও পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক কার্যালয়ের একটি কক্ষে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী কক্ষে ঢুকে তাদের গালমন্দ করেন এবং খাবারের টেবিল থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয়। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ. বি. এম. সানাউল্লাহ বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে তারা নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। সর্বশেষ ঘটনা পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে তর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এক ছাত্র ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলের টব ও একটি গ্লাস ভাঙচুর করে। তবে এর সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর