বাগেরহাট: বাগেরহাটের রামপালে মৎস্য ঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিএনপির অফিস ভাঙচুর করাসহ দুই দফায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় উপজেলা ভাগা বাজার এলাকায় এ ঘটনায় বিএনপির উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। দ্বিতীয় দফায় রোববার (৩ মে) সকালে একজনের ওপর হামলা করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। উভয় পক্ষই বিএনপির সমর্থক।
এসময় ভাগা বাজারে কাঁকড়া ডিপো, বিকাশের দোকান, চায়ের দোকানসহ ভেটেরেনারি ঔষধের দোকান ভাঙচুর ও টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ও পুলিশের তথ্যমতে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিবদমান মৎস্যঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তিকে ধরে এনে বিএনপির অফিসে রাখা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলের যাওয়ার আগেই বহিরাগত কয়েকজন ব্যক্তি আটকদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএপির সদস্য আকবর হোসেন আকো জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় আমিসহ, মাসুদ শেখ (৩৮), খোকন শেখ (৩৬), কামরুল শেখ (৪০), শামীম শেখ (৩২), জাহিদ শেখ (৩৫), হানিফা শেখ (৪০) ও সেকেন শেখ (৪৫) আহত হই। এদের মধ্যে মাসুদ ও খোকনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপির আরেক পক্ষের সদস্য কামাল হোসেন জানান, তাদের দুইজন লোক আটক করেছে শুনে ভাগা বাজারে উদ্ধার করতে গেলে প্রতিপক্ষরা আব্বাস শেখ (৪৫), কামাল হোসেন (৩০), সোহাগ শেখ (২০), সাগর শেখ (২০), রাজু শেখ (৪৫), ওসমান শেখ (৪১), ইসলাম শেখ (৩০) মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়।
এ ঘটনার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, শতাধিক লোকজন হামলায় অংশ নেন। এসময় বিএনপি অফিসসহ বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর, লুটপাট ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জানান, ভাগার ঘটনায় আমি সেখানে যাইনি বা ছিলাম না। কিন্তু আমার বাড়ির সামনে এসে ভয়ভীতি, গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুব্রত বিশ্বাস জানান, ভাগার সংঘর্ষের ঘটনার থানায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।