কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ডাকাত চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রামু থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের বড় ধলিরছড়া এলাকায় একটি ডাকাত দলের ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রামু থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আনোয়ারের নেতৃত্বে এএসআই ছবিউল্লাহ, এএসআই মো. ইলিয়াস, এএসআই রূপম চন্দ্র সেন, এএসআই মো. জাহেদুল ইসলাম, এএসআই মো. সৈয়দ হোসাইন ও এএসআই কোরবান আলীসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে আমির হোসেন ওরফে ‘কালাবাঁশি’র (২৭) বসতঘরের সামনের কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করেন।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় আমির হোসেন ওরফে কালাবাঁশি, হেলাল উদ্দিন, আবুল কাশেম, মো. আলমগীর, শফিউল করিম, সুভাস প্রকাশ, শুভ রাজ এবং শেফায়েত নুরকে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি কাঠের বাটযুক্ত একনলা সচল বন্দুক, চারটি তাজা অ্যামুনিশন, পাঁচটি খালি অ্যামুনিশন, পাঁচটি শটগানের কার্তুজ, দুইটি কিরিচ, একটি কাঠের বাটযুক্ত কিরিচ, একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন, একটি চাইনিজ কুড়াল, নয়টি চকোলেট বোমা, অস্ত্র তৈরির পাঁচটি নকশা, বিভিন্ন ধরনের লোহার রড, পাইপ ও কাটিং সরঞ্জাম, হাতুড়ি, প্লায়ার্স ও স্ক্রু ড্রাইভারসহ বিপুল পরিমাণ ডাকাতির সরঞ্জাম। এ ছাড়াও, জব্দ করা হয়েছে ৮৫টি শিশা, একটি টুল বক্স এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি, যা অস্ত্র তৈরি ও অপরাধ সংঘটনে ব্যবহারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির পরিকল্পনা করে আসছিল এবং মঙ্গলবার ভোরে বড় ধরনের একটি ডাকাতি সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।