সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে মোট ৫ হাজার ৩৫০টি আমবাগান রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি হয়েছে। গত বছর ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে ৬৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৫ মে) জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে সদর উপজেলার ফিংড়ী এলাকার একটি আমবাগানে ‘নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম সংগ্রহ উৎসব’-এর এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম।
কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমের গুণগত মান বজায় রাখতে কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম সংগ্রহ করতে হবে। এতে ফলন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং রফতানিযোগ্য মান বজায় থাকে।’
এ ছাড়া, অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত আম বাজারজাতকরণ ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কঠোর নজরদারি রাখছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমির মোট ৫ হাজার ৩৫০টি আমবাগান থেকে এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন এবং রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ মেট্রিক টন। জেলায় মোট ১২ হাজার ৫০০ জন আমচাষি নিবন্ধিত রয়েছেন। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সভাপতি মো. মমতাজ হোসেন বাপি, মনিরুল ইসলাম মিনি, স্থানীয় প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং আমচাষিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, ‘সাতক্ষীরার আমের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাষিদের অবশ্যই কেমিক্যালমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে। ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ ফল পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।’