Friday 26 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের হাতে তুলে দেওয়া হবে আধুনিক অস্ত্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুন ২০২৬ ১৪:১১ | আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ১৪:৫৭

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘মাদকের চাহিদা কমাতে পারলে সরবরাহও কমে আসবে। যারা মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে কাজ করছে, তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। তারা খালি হাতে অস্ত্রধারী মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। দু’-এক দিনের ভেতরে মাদকদ্রব্য আইন সংশোধন হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে আধুনিক অস্ত্র।’

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ৮০ হাজার মাদক মামলা আদালতে ঝুলে আছে। মাদক শনাক্তকরণের বিশ্বস্ত উপায় ডগ স্কোয়াড। মাদকদ্রব্য অধিদফতরে এটা সংযুক্ত করা হবে। আবার হেরোইন অনেক সময় আটা-ময়দা হয়ে যায়। এ জন্য প্রত্যেক জেলায় মাদক পরীক্ষা করার জন্য ল্যাব করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৮৬৭ সালের আইন নিয়ে আমরা জুয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। জুয়ার বিরুদ্ধে কীভাবে তাহলে আমরা লড়াই করব? আমরা এই যুগে, অথচ আইন হলো আদিম যুগে। এ জন্য আইন সংশোধন করতে হবে এবং আমরা করব। এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ পরীক্ষা (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এই বিধিমালা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি সকল রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক অঙ্গীকার। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই আধুনিক বিশ্ব মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারের ভয়াবহ বিস্তারের কারণে গভীর উদ্বেগের মুখোমুখি। বিশ্বের কোনো দেশই এই সংকট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়, বাংলাদেশও নয়। সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে একটি বড় হুমকি ও অন্তরায় হলো অবৈধ মাদকের বিস্তার। ভবিষ্যতে উন্নত এবং সফল রাষ্ট্রের কাতারে উপনীত হতে হলে আমাদের তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে অবশ্যই মুক্ত রাখতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো—মাদক পাচারকারী চক্র এখন প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল ব্যবহার করছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থার সহায়তায় তারা তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। নারী, শিশু-কিশোরসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা উপায়ে এই অপরাধচক্রের শিকার হচ্ছে। ফলে একদিকে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্তির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতার নিরিখে মাদক সমস্যা সমাধানে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাঠ প্রশাসন সমন্বিতভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ছাড়াও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ইত্যাদি তাদের নিজ নিজ অভিযানে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান গতিশীলতা পেয়েছে। জাতীয় স্বার্থে এ ধরণের আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদকাসক্তি একটি রোগ। যারা মাদকাসক্তির ফাঁদে পড়েছেন, তারা অপরাধী নন, তারা রোগী। মাদকাসক্ত রোগীদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃএকীকরণের নিমিত্তে সরকারি-বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা এবং মনোঃসামাজিক কাউন্সেলিং প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার এমন একটি সমস্যা, যা শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ। এ ছাড়াও, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তারা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর