ঢাকা: দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৩১ টি রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে প্রণীত সংস্কার-প্রস্তাব এবং গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও সরকার সেই রায়কে অগ্রাহ্য করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে তিনি বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণ পরিবর্তন ও মৌলিক সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার সেই জনমতকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’ তার দাবি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে না দেওয়ায় গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি চতুর্থ গণভোট। এর আগে জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার আমলে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ বড় সংকটে। শিশু ও নারী নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।’ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার একটি ঘটনায় ছাত্রশিবিরের এক নেতা নিহত এবং আরেক কর্মী গুরুতর আহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি এর নিন্দা জানান এবং দোষীদের বিচারের দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত থাকার পরও বিভিন্ন স্থানে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের ভেতরে নানা বিষয়ে সক্রিয় থাকলেও নিজ মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিতে পারছেন না। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।’
সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপে তাঁরা সমর্থন দেবেন। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত এলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে গণতান্ত্রিকভাবে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা হবে।’
তিনি একটি মানবিক, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এমন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে এবং প্রত্যেক নাগরিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।’
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের সীমান্তে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পাশে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’