ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গাজীপুরের কোনাবাড়িতে কলেজছাত্র হৃদয় হোসেন-কে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আরও সময় বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ অন্য আইনজীবীরা।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম জানান, মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান শেষ করতে অতিরিক্ত দুই মাস সময়ের আবেদন জানানো হয়।
পরে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোনাবাড়ি থানার সাবেক ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিনের জামিন আবেদন করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। এ বিষয়ে আগামী ১৯ মে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিন সকালে মামলার সাত আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- ঢাকা উত্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ হেল কাফি, সাবেক ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন, এসআই শেখ আবজালুল হক, শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আকরাম হোসেন, কনস্টেবল ফাহিম এবং কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান সজিব।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বের হওয়া ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন হৃদয় হোসেন। সেদিনই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরে রক্তাক্ত মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে এখনও তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।