Tuesday 12 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

লেবাননে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ১৪:৫৮

স্বজন হারিয়ে শোকে কাতর পরিবার।

সাতক্ষীরা: লেবাননে নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কর্মক্ষম দু’ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবার দুটো দিশেহারা। মরদেহ দুটি ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

দক্ষিণ লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইজরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে এবং নাহিদুল ইসলাম নাহিদের (২০) বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।

শফিকুল ইসলামের মা আজেয়া খাতুন জানান, শফিকুল পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে। তার তিনটি বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি লেবাননে যান। তিনি জেবদিন এলাকায় দুম্বার রাখাল ও বেকারিতে কাজ করতেন। গতকাল সোমবার (১১ মে) বিকেলে জেবদিন এলাকায় ইজরায়েলি হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ভ্যানে করে নাহিদকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। এসময় ইজরায়েলি ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলে মারা যান শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী বলেন, শফিকুল ইসলাম ৮ লক্ষাধিক টাকা ঋণী। তিনি লেবাননে যাওয়ার পরে ১ মাস আগে ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। তার দুই মেয়ে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে এখন আমাদের উপায় হবে কী! বিলাপ করতে করতে মুর্চ্ছা যান আফসার আলী।

নাহিদুল ইসলামের মা নূরনাহার বলেন,নাহিদ শফিকুলের সঙ্গে একই সময়ে লেবাননে যান। দু’ভাইয়ের বড় নাহিদ। তার ছোট ভাইয়ের নাম নাফিজ (১২)। আশাশুনির দরগাহপুর কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় তিনি শফিকুল ইসলামের সাথে লেবাননে যান। তিনিও লেবাননে একই কাজ করতেন।

তাদের মরদেহ নাখতিয়ের নাবিহো বেরোবী হাসপাতালে রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাহিদের ফুফু রোজিনা খাতুন জানান, নাহিদের বিদেশে যাওয়ার সময় ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে যায়। সে বিদেশে গিয়ে মাত্র ১ মাসের টাকা দিয়েছে।

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদ্বয়কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে প্রবাসি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের মরদেহ আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর