গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একই এলাকায় কুকুরের কামড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান গৃহবধূ শারমিন সুলতানা (৫২)।
তিনি ওই গ্রামের ছালাম মিয়ার স্ত্রী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনরা জানান, গত ২২ এপ্রিল একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হন শারমিন সুলতানা। গত চার দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে বুধবার দুপুরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ৬ মে একই ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের নন্দা রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া (৫২) মারা যান। পরে ৮ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কাঠমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার (৪২)। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১২ মে) মারা যান আফরোজা বেগম (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল সকালে কঞ্চিবাড়ী ও পাশের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় একটি পাগলা কুকুর হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩ জনকে কামড়ায়। আহতদের অধিকাংশের মুখ, নাক, কান ও চোখের আশপাশে আঘাত লাগে।
আক্রান্তদের মধ্যে আরও আটজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে আছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত শারমিন সুলতানার ছেলে আল আমিন বলেন, ‘মায়ের কানের নিচে গলায় কামড় দিয়েছিল কুকুরটি।
ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে তিনি কিছু খেতে পারছিলেন না। ’
নিহত রতনেশ্বর কুমারের স্বজনরা অভিযোগ করেন, কুকুরে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা না পাওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি।
কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, ‘কুকুরটি বেশির ভাগ মানুষকে মুখমণ্ডলে কামড়েছে। এ কারণে আক্রান্তদের অবস্থা বেশি গুরুতর হয়ে পড়ে। ’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, নিহত ও আহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আক্রান্ত এলাকায় কুকুরকে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তবে তাদের কাছে এ ধরনের ভ্যাকসিন নেই।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান সরাসরি মন্তব্য না করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি প্রতিবেদন দেখান। সেখানে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নেওয়া শুরু করেছিলেন, তবে মৃত্যুর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রশাসন আক্রান্ত ও নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে