সিরাজগঞ্জ: ‘মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, খেলাধুলায় মন ভরি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাড়ে ৭ কিলোমিটার ‘রান সিরাজগঞ্জ’ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার (১৫ মে) ভোর থেকেই শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দৌড়বিদরা। প্রাণচঞ্চল এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও সিরাজগঞ্জ স্পোর্টস অর্গানাইজার-এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। পরে একটি বর্ণাঢ্য ফ্ল্যাগ-অফের মাধ্যমে ম্যারাথন শুরু হয়। দৌড়বিদরা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে দৌড় শেষ করেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় এক হাজারেরও বেশি রানার অংশগ্রহণ করেন। তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও এতে অংশ নেন। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো শহর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যারাথনে মাত্র ১৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে সাড়ে ৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন সিলেটের অ্যাথলেট আশরাফুল। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন খুলনার রানার পারভেজ এবং তৃতীয় হন দিনাজপুরের হামিদ।

প্রতিযোগিতা শেষে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম।
প্রথম স্থান অর্জনের পর অনুভূতি প্রকাশ করে বিজয়ী রানার আশরাফুল বলেন, সিরাজগঞ্জে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এত রানারের অংশগ্রহণ এই প্রতিযোগিতাকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করেছে। আমি নিয়মিত অনুশীলনের ফলেই ভালো সময় করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন আয়োজন বাড়লে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ প্রতিযোগিতা তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব অনেক বেশি। একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে ক্রীড়াচর্চার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জে ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশে আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছি। এই ম্যারাথনের মাধ্যমে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জাতীয় মানের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের খেলাধুলামুখী করতে এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।