সিরাজগঞ্জ: জেলার বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলা চত্বরে প্রকাশ্যে হামলার এ ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই দিনের হাট ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করে।
হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তির নাম সোহেল রানা মোল্লা। তিনি দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান মেম্বার এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে উপজেলার দৌলতপুর ও সমেশপুরসহ মোট পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাটের হাসিল আদায়ের জন্য রোববার উন্মুক্ত নিলামের দিন ধার্য ছিল। দুপুরের পর থেকেই ইউএনও কার্যালয়ের হলরুমে দরদাতারা সমবেত হতে থাকেন। বিকেল ৩টার দিকে একদল যুবক হলরুমে ঢুকে আকস্মিকভাবে সোহেল রানার ওপর চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা তাকে মারধর করতে করতে টেনে-হিঁচড়ে তিনতলা ভবন থেকে নিচে নামিয়ে আনে। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিকরা ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে হামলাকারীরা তাদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরবর্তী সময়ে মারধরের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতার উপস্থিতি ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সোহেল রানা বলেন, ‘নিলামে অংশ না নেওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। আজ হলরুমে বসা অবস্থাতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর ৫০-৬০ জন লোক একযোগে হামলা চালায়।’
তবে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তির পূর্বের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর জানান, ‘পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ইজারা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।’