Wednesday 20 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২০ মে ২০২৬ ১২:৩০

কুষ্টিয়া: ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বছরের পর বছর পানিশূন্য হয়ে পড়ছে পদ্মা, গড়াই ও মাথাভাঙ্গা নদী। শুষ্ক মৌসুম এলেই কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দেয় তীব্র পানিসংকট। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে। এমন বাস্তবতায় নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে পাংশা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প।

প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প অনুমোদনের খবরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের অঞ্চলের মানুষ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলোতে সারা বছর পানির প্রবাহ ধরে রাখতে পারবে। এতে শুষ্ক মৌসুমেও কৃষকরা সহজে সেচের পানি পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর নদীতে পানির সংকটের কারণে চাষাবাদ, মাছ উৎপাদন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক নদী শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণ হলে কৃষির পাশাপাশি মানুষের খাবার পানি ও গৃহস্থালি কাজের পানির সংকটও অনেকটা কমবে বলে তারা আশা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কৃষি নয়, পদ্মায় ব্যারেজ তৈরি হলে কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষি, মৎস্যসম্পদের পাশাপাশি গড়াই নদীতে পানির প্রবাহ বাড়বে সেইসঙ্গে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প। কারণ গড়াই নদী সুন্দরবনের মিঠাপানির অন্যতম প্রধান উৎস। নদীতে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে মাছের উৎপাদনও বাড়বে।

কুষ্টিয়ার পরিবেশবিদ কবিরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে নদীগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি, ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।