যশোর: কুরবানির বাজার ধরতে মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উট এখন যশোরের খামারে। জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী গ্রামের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন তার নিজস্ব খামারে পাঁচটি উট বিক্রির জন্য মোটাতাজা করেছেন। ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার একেকটি উটের দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
উটগুলো দেখতে প্রতিদিনই সীমান্ত এলাকার ওই খামারে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। যশোরের সীমান্তবর্তী পুটখালী গ্রামের এখামার এখন স্থানীয়দের অন্যতম আকর্ষণ। বিশালদেহী পাঁচটি উট ঘিরে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ দেখছেন, কেউবা মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন মরুভূমির প্রাণীটির সঙ্গে।
২০২৪ সালে বাণিজ্যিকভাবে উট পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে উটগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিয়মিত পরিচর্যা, চিকিৎসা এবং দেশীয় খাবার খাওয়ানো হচ্ছে উটগুলোকে। এরই মধ্যে ২৬ লাখ টাকায় একটি উট বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তারা।
খামারটির পরিচালক শহিদুল্লাল জানান, প্রতিদিন দুই বেলা খাবার হিসেবে খড় দেওয়া হয় উটগুলোকে। এছাড়া নির্দিষ্ট পাত্রে পানিতে ভুসি ও খইল মিশিয়ে খেতে দেওয়া হয় উটগুলোকে। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে তারা। দেশের পরিবেশে উট লালন-পালন করা ভালোভাবেই সম্ভব বলে মনে করেন তারা। উটের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। অধিক দাম হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কেবল উট দেখতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কুরবানির হাটে উটগুলোতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘উট যেহেতু মরুভূমির প্রাণী, আমাদের দেশে তো মরুভূমি নাই। আমাদের সমতল ভূমি, কিছু পাহাড়ি এলাকা আছে এখানে কিন্তু উটেরা ন্যাচারাল খাদ্য দিয়েই, অর্থাৎ ঘাস বা দানা খাদ্য দিয়েই পালন করা হয়। সেক্ষেত্রে আমি বলব, উট পালতে যারা ভয় পাচ্ছেন, ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আপনি নিঃসন্দেহে উট পালতে পারেন, উট পালা অবশ্যই লাভজনক।’
নাসিরের খামারে উটের পাশাপাশি রয়েছে সহস্রাধিক গরু ও ছাগল। ৩ বিঘা জমি দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ খামার এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ বিঘায়।