Saturday 23 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে ৬০০ পুলিশ মোতায়েন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ মে ২০২৬ ২২:০০

বাংলাদেশ পুলিশ। ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জ: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলগামী ঘরমুখো যাত্রী ও কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ। ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যানজট নিরসন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং পশুবাহী ট্রাকের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জের মহাসড়কগুলো ঈদ এলেই অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করায় এই অঞ্চলে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবার আগেভাগেই মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিজ্ঞাপন
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে স্বস্তি দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে স্বস্তি দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানায়, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। যেসব এলাকায় অতীতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, সেসব পয়েন্টকে চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক, হাটিকুমরুল গোলচত্বর, নলকা সেতু এলাকা, কড্ডার মোড়, বগুড়া মহাসড়ক, পাবনা মহাসড়ক এবং তাড়াশ হয়ে নাটোর সীমান্ত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ পার্কিং ঠেকাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুবাহী ট্রাক চালকদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা গেছে। পাবনা থেকে ঢাকাগামী একটি পশুবাহী ট্রাকের চালক আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের সময় রাস্তায় অনেক চাপ থাকে। আগে অনেক জায়গায় যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হতো। এবার পুলিশ আগেই তৎপর হওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি। নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবে।

বগুড়া-ঢাকা রুটের বাসচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় যাত্রী বেশি থাকে, তাই দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। সিরাজগঞ্জ এলাকায় যানজট হলে পুরো রুটে ভোগান্তি তৈরি হয়। পুলিশ যদি আগের মতো সক্রিয় থাকে তাহলে যাত্রীরা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

যাত্রীরাও আশা করছেন, এবার ঈদযাত্রা স্বাভাবিক ও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে মহাসড়কে বাড়তি পুলিশি নজরদারি থাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা কমবে বলে মনে করছেন তারা।

এবিষয়ে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলায় আমরা ৩টি গুরুত্বপূর্ণ কানেকটিং সড়ককে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়ক থেকে বগুড়া, পাবনা এবং তাড়াশ হয়ে নাটোর সীমান্ত পর্যন্ত সড়কগুলো ঈদে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। এসব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ঈদুল ফিতরে ৫৮৫ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার ঈদুল আজহায় প্রায় ৬০০ সদস্য মাঠে আ‌ছেন। যেহেতু কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় বিষয়, তাই পশুবাহী ট্রাকগুলো যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং কোথাও চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২২ জেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো যমুনা সেতু। বিকল্প কোনো মহাসড়ক না থাকায় প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে এ পথে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে সামান্য দুর্ঘটনা বা যানজটও দীর্ঘ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ বাস্তবতায় এবারের ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে ব‌্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর