সিরাজগঞ্জ: জেলার সলঙ্গায় র্যাবের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ মোছা. রেহেনা (৩৫) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) রাতে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ হাটিকুমরুল গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে র্যাব-১২, সদর কোম্পানি, সিরাজগঞ্জের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আটক হওয়া রেহেনা রাজশাহী জেলার বাসিন্দা এবং মো. মোস্তফার স্ত্রী।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘসময় নজরদারির পর ওই এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে রেহেনাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেহেনা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি র্যাবের। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি রাজশাহীর সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন। বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় মাদক চক্রের সদস্যদের কাছে এসব মাদক পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
র্যাব আরও জানায়, নারীকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহণের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব-১২, সদর কোম্পানি, সিরাজগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ বলেন, ‘মাদক নির্মূলে র্যাব সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তরুণ সমাজকে রক্ষায় র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
ঘটনার পর আটক রেহেনার বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া হেরোইন জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।