ঢাকা: সারাদেশে বিচারিক আদালতগুলোতে ঝুলে থাকা বিপুল পরিমাণ মামলার জট কমাতে এবং দ্রুততম সময়ে জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতগুলোতে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি সবমিলিয়ে ৪৭ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এই মুহূর্তে সরকারের সামনে প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আদালতে বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি করা। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজুলেশন বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আইনানুগ মাধ্যম অবলম্বনের দিকে আরও জোর দেওয়া জরুরি। এতে একদিকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেমন অল্প সময় লাগবে, অপরদিকে অনেকক্ষেত্রেই পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধগুলো দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতায় রূপ নেবে না।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী বলেছিলেন, শক্তি দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব। সুতরাং, বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বা দেওয়ানি মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা, মধ্যস্থতা, সালিশ কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে নিষ্পত্তির পথ কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে। কারণ জমি বা ভূমি শুধু একটুকরো সম্পদই নয়, বরং মানুষের জীবনে এটি একধরণের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষে সারাদেশে ভূমিসেবা মেলা আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও আধুনিকায়ন করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ করেছিলাম। আজ থেকে সারাদেশে তিনদিনব্যাপী এ ধরণের ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনী ইশতেহার সফলভাবে পূরণ করেছে। এভাবেই সরকার পর্যায়ক্রমে একের পর এক নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে তাদের নিজেদের অধিকারের সঠিক প্রতিফলন দেখতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে। সারাদেশে শুরু হওয়া এই ভূমি মেলার মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কারণ মেলায় সরাসরি ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।
এবারের মেলা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে এবং মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, এবারের মেলায় নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ও সরাসরি সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।