Tuesday 19 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ মে ২০২৬ ১৯:০০ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১৯:৩৭

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

মঙ্গলবার (১৯ মে) চিফ হুইপের সংসদ ভবন কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বর্তমান রূপরেখা, সার্বিক গণতন্ত্রের উন্নয়ন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারকরণ, জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন এবং ঐতিহাসিক সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থেকেছে। দুই দেশের মধ্যে চমৎকার ও সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে এবং আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্যতম বৃহৎ ও সম্ভাবনাময় বাজার। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার তরুণ প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল আইটি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরির যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, প্রযুক্তিতে শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

বিজ্ঞাপন

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত ও টেকসই করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনে ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষি ঋণ মওকুফ করার মতো নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণমুখী কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরও বলেন, এসব কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে হলে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা মসৃণ রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো ক্ষেত্রেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সংসদকে গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আমাদের গৌরবের ও গণতন্ত্রের প্রতীক এই মহান সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানকে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

বৈঠকে মার্কিন মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন বলেন, বাংলাদেশের এই অনন্য সংসদ ভবনটি মূলত দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই কানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই স্থাপত্যশৈলী দেখার জন্য আমেরিকার স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থীরাও প্রায়ই বাংলাদেশে আসার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার ও কার্যকর গণতন্ত্রের চর্চায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। এ সময় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শ্রম আইন সংস্কার প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এবং জানানো হয় যে ওয়াশিংটনে এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে নতুন চুক্তিগুলোতে দুর্নীতি দমন, টেকসই পরিবেশ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলায় আগামী ৫ বছরের জন্য ৯০ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ মার্কিন সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদল জানায়, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত বন্ধুপ্রতিম গণতান্ত্রিক দেশ এবং বর্তমান সরকারের গৃহীত দূরদর্শী অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। দুই দেশের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কেবল দাপ্তরিক নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী দিনে এই অংশীদারিত্ব আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে ও টেকসই হবে। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।