সাতক্ষীরা: পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর হাটগুলো শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় চাহিদার তুলনায় ১৮ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ১ হাজার ৬৪০টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারি ও চাষিরা প্রস্তুত করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ২২টি পশু। ফলে জেলায় ১৮ হাজার ৩৮২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার ৯১৫টি ষাঁড়, ৩ হাজার ৬৩৫টি বলদ, ১১ হাজার ১৮৫টি গাভী, ১৫৪টি মহিষ, ৬৩ হাজার ১০৩টি ছাগল ও ৬ হাজার ২০টি ভেড়াসহ অন্যান্য আরও ১০টি পশু।
এদিকে, ঈদ ঘনিয়ে আসায় জেলার উপকূলীয় শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার হাটগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট কেনাবেচা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে হাটগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
হাটে আসা ক্রেতারা জানান, ঈদের শুরুর দিকে পশুর দাম কিছুটা বেশি থাকলেও শেষ সময়ে এসে তা তুলনামূলকভাবে কমেছে। ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নিজেদের সাধ্যের মধ্যে পশু কিনতে পারছেন।
শুধু গরুই নয়, ছাগলের হাটেও বেড়েছে ভিড়। ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন জাতের ছাগল কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা।
ক্রেতা কবির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও সাইফুল ইসলাম কাজল জানান, প্রথমদিকে বিক্রেতারা দাম অনেক বেশি চাচ্ছিলেন। এখন শেষ সময়ে এসে দরদাম করে সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু কেনা যাচ্ছে। মূলত এই সুযোগটির জন্যই ক্রেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে।
বিক্রেতা রসুল গাজী ও গামা সরদার জানান, ঈদ একেবারে ঘনিয়ে আসায় বিক্রি নিশ্চিত করতে বিক্রেতারা দামে কিছুটা ছাড় দিচ্ছেন। এতে শেষ সময়ে এসে হাটে বেচাকেনা বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, হাটগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। জালিয়াতি ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম. এম. মান্নান কবীর জানান, এবার জেলায় ১৬টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। হাটে অসুস্থ পশু শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য ১৪টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘খামারিরা যাতে তাদের পশুর ন্যায্যমূল্য পান এবং ক্রেতারা যাতে সুস্থ-সবল পশু কিনতে পারেন, সেজন্য আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু লালন-পালনের জন্য আমরা বছরজুড়েই খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি।’
কোরবানির আর একদিন বাকি থাকায় শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।