ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ দিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ ও ঈদগাহমুখী হন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। কোথাও মেঘলা আকাশ, কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, আবার কোথাও উৎসবমুখর জনসমাগম—সবমিলিয়ে ঈদের সকাল হয়ে ওঠে ভিন্ন এক আবহে মোড়া। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সারাবাংলার প্রতিবেদকরা পাঠিয়েছেন ঈদ উদযাপনের সেসব খবর।
খুলনা
খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ ঈদ মোবারক খচিত ব্যানারে সাজানো হয়।
সকাল ৭টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও মুসল্লিরা অংশ নেন। পরে নগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
রংপুর
রংপুরে সকাল ৮টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় প্রধান ঈদের জামাত। এতে মূল প্যান্ডেলের ভেতরে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করে।
এ সময় ঈদগাহ এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নামাজ ও খুতবার পর দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিপীড়িত মুসলিমদের জন্য দোয়া করা হয়। জামাতে অংশ নেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নামাজ শেষে বৃষ্টি শুরু হলেও মুসল্লিদের ভোগান্তি হয়নি।
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে জেলার ১২ উপজেলায় ১ হাজার ৫৩২টি মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়। বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও বিশেষ দোয়া করা হয়।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে পৌর এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শহরের পৌর কেন্দ্রীয় খান সাহেবের ঈদগাহ মাঠ, মালশাপাড়া কবরস্থান ঈদগাহ মাঠ ও আমলাপাড়া ওয়াপদা ঈদগাহ মাঠে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান জামাতে অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সর্বস্তরের মুসল্লিরা।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। ঈদের জামাত ঘিরে বিভিন্ন ঈদগাহে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রাজবাড়ী
রাজবাড়ীতেও ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় শহীদ খুশি রেলওয়ে ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
নামাজের আগে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। পরে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়।
ঈদের জামাত শেষে দেশজুড়েই মুসল্লিরা কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনেকে ছুটে যান কবরস্থানে, প্রিয় স্বজনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন তাদের রুহের মাগফিরাতের জন্য। এরপর শুরু হয় পশু কোরবানির প্রস্তুতি। ত্যাগের মহিমা আর আত্মশুদ্ধির আহ্বানে ভরে ওঠে ঈদের দিন।