কুমিল্লা: জেলার বুড়িচং উপজেলায় গৃহবধূ লিপি আক্তার (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে বাংলাদেশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি মো. সুমনকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩০ মে) ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে র্যাব-১১ সিপিসি-২ ও র্যাব-১ সিপিসি-১-এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর সদর থানার ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শাহাগোদা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সুমন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। লিপি আক্তার ছিলেন আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমন ঘটনার রাতে লিপির বাসায় ছিলেন। পরদিন ভোরে সুমন লিপির মোবাইলফোন নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তিনি লিপিকে বিছানায় ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব জানায়, গত ২৮ মে ঈদের দিন বুড়িচং উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকা লিপি আক্তারের সঙ্গে তার মেয়ের দেখা হয়। বিকেলে মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে মুঠোফোনে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে খাটের ওপর তার মায়ের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে শুক্রবার (২৯ মে) বুড়িচং থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে র্যাব।
এ ছাড়া র্যাব জানায়, গ্রেফতার হওয়া সুমন মাদকাসক্ত। তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব-১১।