সিরাজগঞ্জ: এমনিতেই দিনভর যানজটে নাকাল ছিল যমুনা সেতুর দুই প্রান্ত। কিন্তু রাতে যানজট কমবে তো দূরের কথা আরও বেড়েছে। কারণ, সেতুর ওপর যাত্রীবাহী একটি বাস বিকল হয়ে পড়ায় ফের সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঢাকামুখী ও উত্তরবঙ্গমুখী উভয় লেনেই দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। ঈদ-পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যেই এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে যমুনা সেতুর ওপর একটি বাস বিকল হয়ে পড়ে। এর আগে বিকেলে সেতুর বিভিন্ন স্থানে চারটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিকল যানবাহনগুলো দ্রুত উদ্ধার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালেও রাতের দিকে যাত্রীবাহী আরেকটি বাস বিকল হলে যানজট আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
সেতুসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকল যানবাহনের কারণে সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। বিশেষ করে ঢাকামুখী লেনে চাপ বেশি থাকলেও উত্তরবঙ্গমুখী লেনেও যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘যমুনা সেতুর দুই পাড়ে এখনো যানবাহনের চাপ রয়েছে। সেতুর ওপর কোনো যানবাহন বিকল হলেই এর প্রভাব দুই প্রান্তে পড়ে। কিছুক্ষণ আগে একটি বাস বিকল হয়েছে। সেটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমাদের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।’
এ দিকে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। বগুড়া থেকে ঢাকাগামী পোশাককর্মী মোবারক হোসেন সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিকেলেই রওনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেতুর কাছাকাছি এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। শনিবার সকালে কাজে যোগ দেওয়ার কথা। সময়মতো পৌঁছাতে পারব কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
রংপুর থেকে ঢাকাগামী বাসযাত্রী রমেছা বেওয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘শিশু সন্তান নিয়ে বাসে বসে আছি। প্রচণ্ড গরমে ছোট বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে। যানজটের কারণে খাবার ও পানিরও সমস্যা হচ্ছে। এর দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।’
অন্যদিকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক আব্দুল হান্নান সারাবাংলাকে বলেন, ‘পণ্য নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে আটকে আছি। সেতুতে একটি গাড়ি বিকল হলেই পুরো সড়কে এর প্রভাব পড়ে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে উত্তরাঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফিরছেন। সেই সঙ্গে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপও বেড়েছে। এর মধ্যেই সেতুর ওপর বারবার যানবাহন বিকল হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, বিকল বাসটি দ্রুত উদ্ধার করা গেলে রাতের মধ্যেই যানজট অনেকটাই কমে আসবে এবং ধীরে ধীরে সেতুর উভয় প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।