সিরাজগঞ্জ: উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সেতুর ওপর যান চলাচল ব্যাহত হলে সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জ অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী একটি বাস যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির আরেকটি যাত্রীবাহী বাস এসে ধাক্কা দেয়। এতে একটি বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক যাত্রী প্রাণ হারান। আর আহত হন অন্তত সাত জন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের নাম-পরিচয়ও রাত পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই সেতুর ওই অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেতুর পশ্চিমপ্রান্ত সিরাজগঞ্জ অংশে মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সেতুর গোলচত্বর এলাকা থেকে ঝাওল ওভারব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রী ও পরিবহনের চাপ এমনিতেই বেশি ছিল। এর মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শত শত বাস, ট্রাক, পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে। অনেক যাত্রী যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেতু কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিতে রেকার ব্যবহার করা হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দিয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফলে সেতুর পশ্চিমপাড়ে মহাসড়কে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কিছু যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।’
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে সেতুর ওপর স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় চালু হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।