নতুন প্রধান কোচের অধীনে যাত্রাটা স্বপ্নের মতোই হলো বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। ডিফেন্ডার তপু বর্মণের জোড়া গোলে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ইউরোপের মাটিতে পাওয়া এই জয় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় নিশ্চয়।
শুক্রবার সান মারিনোর স্তাদিও অলিম্পিকো দে সেরাভেলেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীনে প্রথম ম্যাচেই দলীয় সমন্বয়, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং লড়াই করার মানসিকতা চমৎকারভাবে দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্কতা অবলম্বন করেছে। স্বাগতিকরা কয়েকটি আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেয়। ধীরে ধীরে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন দল।
১৬তম মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম গোল আসে। হামজা চৌধুরির নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে শেখ মোরসালিনের নিখুঁত ক্রসে হেড করে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ। তার গোলে ১-০তে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। স্বাগতিকদের বেরার্দির পাস থেকে নিকোলাস গিয়াকোপেত্তি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর আরও একটি সহজ সুযোগ পেয়েও ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের সাদ উদ্দিন।
বিরতির পর বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কোচ ডুলি শমিত সোম, জায়ান আহমেদ এবং সোহেল রানাকে মাঠে নামালে খেলার গতি বদলে যায়। একাধিক আক্রমণে সান মারিনোর রক্ষণভাগকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। সোহেল রানার একটি সহজ সুযোগ নষ্ট হয়, আর ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের একটি শক্তিশালী দূরপাল্লার শট এক হাতে ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন আবারও নায়ক হয়ে আবির্ভূত হন তপু বর্মণ। ম্যাচের শেষভাগে হামজা চৌধুরির আরেকটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে হেড ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। যোগ করা সময়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।