Tuesday 16 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বেরোবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুন ২০২৬ ১৯:৩৪

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা।

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগকারীও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগেই বাপ্পি প্রতারণার চেষ্টা করলে তার পরিবার তাজহাট থানায় অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ থেকে বাঁচতেই বাপ্পি তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্ত্রী অভিযোগে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে তিনি নিয়মিত নেশা করেন। নেশার টাকা জোগাতে আমার গায়ে হাত তোলেন। বিয়ের পর থেকে তিনি কোনো কাজ করেন না, সম্পূর্ণ আমার উপার্জিত টাকায় জীবনযাপন করেন এবং জোরপূর্বক সেই টাকা দিয়ে নেশা করেন। ছোটোখাটো বিষয়েও আমাকে মারধর করেন এবং পরিবার থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। যৌতুকের টাকা না দিলে তার পরিবার আমাকে মেনে নেবে না—এমন হুমকিও দেন।’

আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং কাউকে কিছু বললে হত্যা করার ভয় দেখানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নির্যাতন চালিয়ে তিনি আমার কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়েছেন এবং জোরপূর্বক একটি স্মার্টফোনও কেড়ে নিয়েছেন, যা এখন তিনি নিজের বলে দাবি করেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাইদুল ইসলাম বাপ্পি। তিনি বলেন, ‘স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছিল। এটা একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়। আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই। তবে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।’

অভিযোগ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাটিকে ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়’ উল্লেখ করে বাপ্পির পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগকারী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট শেয়ার করে লেখেন, ‘ঝগড়া আর ফরমাল অভিযোগের ভেতরের পার্থক্য ভুলে গেছে বেরোবি ছাত্রদল। লিখিত অভিযোগ দেখেও না দেখার ভান করে এটিকে ঝগড়া বা ব্যক্তিগত বিষয় বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে। চোখ থাকতেও অন্ধ, নাকি ব্রেন থাকতেও ব্রেনলেস?’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের একটি কপি পেয়েছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জমা দিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন অনুযায়ী, স্বামীর দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। আইনজীবীদের মতে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় তারা বিস্মিত। তাদের প্রশ্ন, একজন নেতা যদি এমন আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর