Friday 23 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খালিদুজ্জামানের ডিগ্রি নিয়ে মুখ খুললেন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডা. মৃণাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৪ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২২

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. মৃণাল কুমার সরকার।

ঢাকা: ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি বিষয়ে বিদেশে অর্জিত ডিগ্রি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের প্রখ্যাত বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. মৃণাল কুমার সরকার। তার ভাষায়, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ও ব্যবহৃত একটি বিশেষায়িত মেডিকেল ডিগ্রি বাংলাদেশে ‘অজানা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়াই মূল বিভ্রান্তির কারণ, যা থেকে পরবর্তীতে সমালোচনা ও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এভারকেয়ার ফার্টিলিটি সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর এবং বাংলাদেশের আইভিএফ ও এআরটি চিকিৎসা পদ্ধতির অগ্রদূত ডা. মৃণাল কুমার সরকার তার বিশদ অভিমত তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ডা. এস এম খালিদুজ্জামানের ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি ডিগ্রি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও পরবর্তী সময়ে বিএমডিসির শোকজ নোটিশ জারির ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

এ প্রসঙ্গে ডা. মৃণাল কুমার সরকার বলেন, ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি একটি তুলনামূলকভাবে নতুন ও অত্যন্ত বিশেষায়িত সাব স্পেশালিটি। সমস্যার মূল জায়গাটা ছিল- বিএমডিসি তখন এই ডিগ্রিটা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল না। তারা প্রশ্ন করেছিল, এটি কীসের ডিগ্রি, এর কাজের পরিধি কী। বিষয়টি নতুন হওয়ায়, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এটিকে কীভাবে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে ফেলা যায় বা কোন ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি দেওয়া যায়-সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব ছিল। ডিগ্রিটি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বিষয়টি অপরিচিত হওয়ায় নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে তিনি বলেন, অধ্যাপক টিএ চৌধুরী এবং অবসটেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি সোসাইটির (ওজিএসবি) মাধ্যমে আমরা বিএমডিসিতে বিষয়টি রেকগনাইজ করানোর চেষ্টা করেছি। এমনকি ডা. খালিদুজ্জামানকে কোনো পদে পদায়নের আগেই এটি রেগুলারাইজ বা বিএমডিসির কগনিজেন্সে আনার চেষ্টা হয়েছিল।

ডা. মৃণাল কুমার সরকারের মতে, এটি কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে দেশের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রস্তুতির ঘাটতির প্রতিফলন। ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত একটি সাব স্পেশালিটি। অথচ আমাদের দেশে এটিকে ‘আননোন’ হিসেবে দেখা হয়েছে- এটাই বড় সমস্যা। বিশ্বে প্রচলিত ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা শাখাগুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিতর্ক তৈরি হতে পারে। কোনো ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাই ও নীতিগত সমাধানের পথ খোঁজা উচিত ছিল। কিন্তু বিষয়টি না বুঝেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে যাওয়া বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের আপডেটেড দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে চিকিৎসা ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই ধরনের বিশেষায়িত শাখা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্টতা আসবে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এলে এসব ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা ও ব্যাবহারিক গুরুত্ব বোঝানো সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তির পুনরাবৃত্তি হবে না।