ঢাকা: রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে পূর্বশত্রুতার জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত শামীম (৪০) এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন। এই ঘটনায় বাহুবলী ও রহিত নামে এজহারভুক্ত ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শামীম।
নিহত শামীমের স্ত্রী সুমি আক্তার জানান, তাদের বাসা মিরপুর-১০ বেনারসি পল্লী, পানির ট্যাংকি ১৮ নম্বর লেনে। শামীম ব্যাটারী চালিত রিকশা চালাইতো। তাদের ঘরে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
তিনি জানান, গত ১১ এপ্রিল রিকশা চালিয়ে দুপুরে খাবার খেতে বাসায় ফিরেন তার স্বামী শামীম। তখন তার ছেলে বিরিয়ানি খেতে বায়না ধরে। শামীম আবার বাসার বাইরে যায় বিরিয়ানি কিনতে। বেনারসি পল্লীর মসজিদের সামনে গেলে সেখানে এলাকার বাহুবলি, রহিতসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে শামীমকে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে ওইদিনই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরো জানান, এরপর সেখান থেকে কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সর্বশেষ অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার আবার তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর রোববার দিবাগত রাতে সেখানে তিনি মারা যান।
এবিষয়ে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহান মোল্লা জানান, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় শামীমের স্ত্রী বাদী হয়ে ওই সময়ই একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেলে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাহুবলি ও রহিত নামে এজহারভুক্ত ২ আসামি গ্রেফতার আছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে।