Thursday 28 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তি, অস্বস্তি বাড়তি ভাড়ায়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৮ মে ২০২৬ ১৫:২২

ঢাকার রাস্তা।

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। নাড়ির টানে লাখো মানুষ গ্রামে ফেরায় চিরচেনা যানজট আর হর্নের নগরীতে নেমে এসেছে স্বস্তি। প্রধান সড়কগুলোতে নেই গাড়ির দীর্ঘ সারি, মোড়ে মোড়ে নেই যাত্রীদের ভিড়। তবে এই স্বস্তির মধ্যেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছে নগরবাসী।

ঈদের দিন ও ছুটিকে কেন্দ্র করে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, ‘গাড়ি কম’, ‘ঈদের দিন’ কিংবা ‘ঈদের বকশিশ’—এমন নানা অজুহাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসান বলেন, ‘ঈদের দিন মেট্রোরেল বন্ধ থাকে, তাই বাধ্য হয়ে বাস বা রিকশার খোঁজ করছি। রাস্তায় জ্যাম নেই, এটা ভাবতেই ভালো লাগছিল। কিন্তু মিরপুর-১০ থেকে যেদিকেই যেতে চাই, ভাড়া অনেক বেশি চাচ্ছে। ঈদের দিন বলে কি আমাদের পকেট কাটার লাইসেন্স পেয়ে গেছে তারা?’

বিজ্ঞাপন

গৃহিণী ফারিহা ইয়াসমিন বলেন, ‘পরিবার নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় যাব বলে সিএনজি খুঁজছিলাম। অ্যাপে যে ভাড়া দেখাচ্ছে, চালকরা তার চেয়ে সরাসরি ২০০ টাকা বেশি দাবি করছেন। কাউকেই নিয়মের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফাঁকা ঢাকার সুযোগ নিয়ে সবাই সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়েছে।’

তবে চালকদের ভাষ্য, ঈদের সময় যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় আয়ও কমে যায়। এ কারণে বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

রিকশাচালক মো. রহমত আলী বলেন, ‘সবাই তো ঈদে বাড়ি চলে গেছে, আমরা যাইনি। ফাঁকা রাস্তায় কষ্ট করে রিক্সা চালাচ্ছি। ঈদের দিন একটু বকশিশ বা বাড়তি ভাড়া না পেলে আমাদের ঈদ চলবে কীভাবে?’

প্রজাপতি বাসের চালকের সহকারী সুজন মিয়া বলেন, ‘আজকে রাস্তায় লোকাল যাত্রী অনেক কম। ট্রিপ দিয়ে তেলের খরচ তোলাই কঠিন। তাছাড়া ঈদের দিন আমরা পরিবার ফেলে ডিউটি করছি, তাই ভাড়া একটু বেশি না নিলে মালিকের জমার টাকা দিয়ে আমাদের পকেটে কিছুই থাকবে না।’

তবে যাত্রীদের দাবি, উৎসবের সময়েও গণপরিবহণ ও রিকশাভাড়ার ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে না হয়।

সারাবাংলা/এনএল/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর