ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন বয়সি মানুষ চিড়িয়াখানায় আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের চাপ সামাল দিতে টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। দর্শনার্থীদের চলাচল সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছে।
দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ ছিল শিশু। পাঠ্যবইয়ে দেখা পশুপাখি বাস্তবে দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিশেষ করে বাঘ, সিংহ, হরিণ ও হাতির খাঁচার সামনে শিশুদের ভিড় ছিল বেশি। সিংহকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে কেউ কেউ হতাশ হলেও বাঘকে সক্রিয় অবস্থায় দেখে শিশুদের উচ্ছ্বাস বাড়ে। খাঁচায় বন্দি ময়ূরের নাচও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
মালিবাগ থেকে আসা সুমনা আক্তার বলেন, ‘সন্তানেরা বেশ কিছুদিন ধরেই চিড়িয়াখানায় আসার বায়না ধরছিল। আজ ওদের বাঘ আর হাতি সামনাসামনি দেখাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটা ওদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা মুহিন রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষটিকে সরাসরি দেখার আগ্রহ থেকেই বন্ধুদের নিয়ে আসা। উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেও পরিবেশটা বেশ উপভোগ করছি।’
তাহমিনা নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘অনেকদিন পর চিড়িয়াখানায় এলাম। ছোটোবেলার স্মৃতিগুলো আবার মনে পড়ে গেল। আজ মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি, তবে উৎসবমুখর পরিবেশটা ভালো লাগছে।’
খিলক্ষেত থেকে আসা নবীন তালুকদার বলেন, ‘সন্তানদের বিনোদনের পাশাপাশি শেখার সুযোগ করে দিতেই নিয়মিত বিভিন্ন জাদুঘর ও চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসি।’
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, ঈদের সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চিড়িয়াখানায় প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে থাকা অ্যাটেনডেন্টের জন্য টিকিটের প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য দিনের মতো চিড়িয়াখানা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।