ঢাকা: সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে চড়া রাজধানীর সবজির বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি ও মাছের দাম রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সাধারণ সবজি কিনতে হলেও কেজি প্রতি গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৭০ টাকা। নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বমুখী দামে বাজারে এসে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে বাড়লেও প্রায় সব ধরনের সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ৩০ টাকা কেজিতে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকায়।
বাজারের এমন পরিস্থিতিতে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে এলে মনে হয় সবজির কোনো অভাব নেই, দোকানভর্তি মাল। অথচ দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সাধারণ মানুষের এক কেজি সবজি কিনে খাওয়া এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবজির বাজার আগুনের পাশাপাশি স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ভরসা চাষের পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া মাছের দামও এখন ২০০ টাকা ছাড়িয়ে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে রুই ও কাতলা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়। মাছ বাজারে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে ইলিশ। এক কেজির কাছের বা এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি দরে এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা। আর ছোট আকারের ইলিশের দামও কেজিপ্রতি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার নিচে নামছে না। ফলে ইলিশ সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের অনেকটাই বাইরে চলে গেছে।
মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। সোনালি কক কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৬০, ব্রয়লার ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারি বাজার ও পরিবহনে অতিরিক্ত খরচকে। তাদের দাবি, আড়ৎ থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টি ও পরিবহনের খরচ বৃদ্ধির কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।
তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে কৃত্রিম চড়াভাব বজায় রয়েছে। তারা নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান।