ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চুলায় ভাত রান্না করাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে কাঁচির আঘাতে আহত কিশোর নিরব (১৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর রায়েরবাগ গ্রীপগলির একটি টিনশেড বাসায় কাঁচির আঘাতে আহত হয় সে।
হাসপাতালে নিরবের বড় ভাই পিয়াল হাসান জানান, তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার রামনগর গ্রামে। বর্তমানে রায়েরবাজার গ্রীপগলির টিনশেড বাসায় থাকে। বাবা এনায়েত মুন্সি রংয়ের কাজ করে। নিরব তার বাবার সঙ্গে রংয়ের কাজ করতো।
তিনি আরও জানান, রায়েরবাজারে টিনশেড বাসায় মেস করে থাকেন তারা। একটি রুমে তারা দুই ভাই ও বাবা এনায়েত মুন্সি থাকেন। নিরব বাবার সঙ্গে রংয়ের কাজ শিখছিল। গত ১৯ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গ্যাসের চুলায় ভাত রান্না করছিল নিরব। এ সময় পাশের রুমের আলমগীর ভাত রান্না করতে আসে। চারটি চুলা আছে সেখানে। বাকি চুলায় না গিয়ে নিরবকে চুলা ছাড়তে বলে আলমগীর। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে নিরব আলমগীরকে গালি দেয়। ক্ষিপ্ত হয়ে আলমগীর নিরবকে মারধর করে। বড় ভাই এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে।
পিয়াল জানান, এ সময় আলমগীরের ভাই শিমুল দুই ভাতিজা নাজিম ও নাদিম রুম থেকে বের হয়ে মারধর করে নীরবকে। এক পর্যায়ে শিমুল নিরবের গলায় কাঁচি ঢুকিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর তাদের বাবা বাসায় এলে তাকেও মারধর করে। এর পর নিরবকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফের ২২ অক্টোবর নিরবকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যায় নিরব।
মোহাম্মদপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৯অক্টোবর রাতে ভাত রান্নাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। গলায় কাঁচির আঘাতে আহত হয় নিরব। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছে। ঘটনার পর বাবা এনায়েত মুন্সি চার আসামির নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। ওই মামলাটি এখন হত্যা মামালায় রূপান্তর হবে। এই ঘটনায় আলমগীর নামে এক আসামি গ্রেফতার আছে।