ঢাকা: আন্তর্জাতিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ নভেম্বর সকালে ১৭৯ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আমাদের রাজধানী ঢাকা। বর্ষার স্বস্তিদায়ক দিনগুলো পার হয়ে শীতের হিমেল পরশ নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার আকাশ এক চাদরে ঢেকে যায়, যাকে আমরা সাধারণ কুয়াশা ভাবলেও আসলে তা বিষাক্ত ধোঁয়াশা বা স্মগ।
ঢাকার এই ভয়াবহ বায়ু দূষণের পেছনে রয়েছে একাধিক মানবসৃষ্ট ও ভৌগোলিক কারণ। নগরজুড়ে চলা অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়াখুঁড়ি এবং উন্মুক্ত অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে প্রচুর ধূলিকণা প্রতিনিয়ত বাতাসে মিশছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজধানীর চারপাশের অবৈধ ইটভাটাগুলো, যা শীত মৌসুমের শুরুতেই পুরোদমে চালু হয়ে বিপুল পরিমাণে কালো ধোঁয়া ছড়ায়। পাশাপাশি, প্রতিদিন রাস্তায় চলাচলকারী হাজার হাজার ফিটনেসবিহীন ও পুরনো গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক পোড়ানোর প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বড় শহরগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই তালিকায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যেখানে একিউআই স্কোর প্রায় ২৯৩-এর কাছাকাছি পৌঁছে শহরটিকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বা বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সেখানে শীতকালীন ধোঁয়াশা, ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং শিল্পাঞ্চলের দূষণ প্রধান সংকট তৈরি করেছে। লাহোরের পরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি ও কলকাতা, যেখানে যথাক্রমে ২১৪ এবং ২০৭ স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত এই সমগ্র অঞ্চলেই ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত মিল এবং অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নের কারণে বায়ুদূষণ একটি আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
বায়ুদূষণের এই নীরব আগ্রাসন বয়স্ক, শিশু এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নগর কর্তৃপক্ষের জোরালো তদারকি, নিয়মিত রাস্তায় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।