চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য চালু করা হয়েছে ইন্টারকমের ব্যবস্থা। এর ফলে এখন থেকে কয়েদি ও হাজতিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে নির্বিঘ্নে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ইন্টারকমের মাধ্যমে কথা বলতে পারবেন। ব্যবস্থাটি পেয়ে উচ্ছ্বসিত কারাবন্দি ও তাদের স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ইন্টারকম সেবার উদ্বোধন করেন। বেসরকারি সংস্থা আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় বন্দিদের জন্য এই সেবা চালু করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কারাগারে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কিন্তু কারাগারের দেখার কক্ষে অত্যন্ত শব্দ হয়। অনেক মানুষ একসঙ্গে ভিড় করায় কেউ কারও কথা বোঝে না। অনেক দূর থেকে সন্তান তার বাবার সঙ্গে দেখা করে দুটি কথা বলার ইচ্ছে নিয়ে আসে। কিন্তু পরে সেটি বলা হয় না পরিবেশের কারণে। এতে তারা বেদনা ও বিরক্তি নিয়ে ফিরে ফিরে যায় কারাগার থেকে।
‘এ জন্য তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুবিধার্থে ইন্টারকম চালু করা হয়েছে।প্রাথমিকভাবে ১৬টি করে দুই প্রান্তে মোট ৩২টি ইন্টারকম চালু করা হয়েছে। এতে বন্দিরা তাদের মা, বাবা, ভাই, বোন, সন্তানের সঙ্গে ২০-৩০ মিনিট করে নির্বিঘ্নে কথা বলতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে অনলাইনের মাধ্যমে স্বজনেরা যেন সিরিয়াল নিতে পারেন, সে জন্য আরেকটি প্রকল্প আমরা করার উদ্যোগ নিয়েছি ‘
সরেজমিনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎকক্ষে দেখা যায়, বন্দির স্বজনেরা ইন্টারকমে কথা বলছেন। তাদের কারারক্ষীরা ও শামসুল হক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা কীভাবে ইন্টারকম চালাতে হয় তা শিখিয়ে দিচ্ছেন।