চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আগামীকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। বলীখেলা উপলক্ষ্যে নগরীর লালদীঘির চারপাশ ঘিরে বসেছে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে দোকানিরা নানা ধরনের পণ্য নিয়ে এসে পসরা বসিয়েছেন।
প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসা দোকানগুলোতে কী নেই? মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনা থেকে শুরু করে ফুলদানি ও পুতুল, বেত-কাঠ ও বাঁশের তৈরি নানা আসবাবপত্র, হাতপাখা, মাছ ধরার পলো, ডালা, কুলো, গাছের চারা, মুড়ি মুড়কি, শীতল পাটি, দা-বটি, ছুরিসহ গৃহস্থালির সব ধরনের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে।

ছবি: সারাবাংলা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মেলার প্রথম দিনে লালদীঘি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আন্দরকিল্লা থেকে কোতোয়ালি মোড়, জেল রোড, কে সি দে রোডসহ আশপাশের সড়কের ফুটপাতের ওপর দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা বসিয়েছেন। কেউ কেউ দোকান সাজাচ্ছেন। কেউ বিক্রির জন্য আনা মৃৎশিল্পের নানা পণ্যের ওপর নজরকাড়া রং করছেন।
দোকানিরা জানান, দুই দিনব্যাপী মেলা হলেও তারা প্রতিবছর মেলার দুই দিন আগে থেকেই দোকান সাজাতে শুরু করেন।
জানা গেছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজকে সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে বক্সিরহাট এলাকার স্থানীয় আব্দুল জব্বার সওদাগর নগরীর লালদিঘী মাঠে আয়োজন করেন কুস্তি প্রতিযোগিতা। যা সময়ের পরিক্রমায় জব্বারের বলী খেলা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। বৈশাখের ১২ তারিখে লালদিঘীর ময়দানে বলী খেলা হয়।

ছবি: সারাবাংলা
চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান এই মেলা থেকে পণ্য কিনতে লোকজন এক বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন। কারণ এখানে একসঙ্গে যত ঐতিহ্যবাহী পণ্য পাওয়া যায়, স্বাভাবিক সময়ে এসব পাওয়া যায় না।
নগরীর আগ্রাবাদ এলাকা থেকে মেলায় আসা সজিব বড়ুয়া সারাবাংলাকে জানান, তিনি প্রতিবছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেন। মেলায় মানুষের ভিড় বাড়ার আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার চেষ্টা করেন।
পাথরঘাটা থেকে মেলায় আসা গৃহবধূ রুম্পা দাশ জানান, শনিবার বিকেলে লালদীঘি পাড়ে ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও এখানে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের অনেক মানুষের মতো তিনিও সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন এ মেলার জন্য। এখান থেকেই তিনি সারা বছরের ছোট-খাটো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনেন। এবারও কিনবেন।

ছবি: সারাবাংলা।
খুলনা থেকে মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসা মিহির সরকার দোকান সাজিয়েছেন কেসি দে রোডের সিনেমা প্যালেসের পাশে। তিনি জানান, খুলনা থেকে মালামাল নিয়ে এসেছেন তিন দিন আগে। তিনি এবার ফুলদানি এবং শোপিস নিয়ে এসেছেন।
ঢাকা থেকে বেপারির সঙ্গে আসা সৌরভ রহমান জানান, ১৫০ পদের মাটির তৈরি তৈজসপত্র নিয়ে ৪ দিন আগে চট্টগ্রামে এসেছেন তারা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার জিনিসপত্র এনেছেন তারা। মেলায় ভালো কিছু হবে আশা করছেন তিনি।

ছবি: সারাবাংলা।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল সারাবাংলাকে জানান, এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১০৮ জন বলী অংশ নেবেন। বলী খেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

ছবি: সংগৃহীত।
চলমান এসএসসি পরীক্ষার কারণে ২৬ এপ্রিল ভোরে মেলা শেষ করতে হবে। মেলা উপলক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।