Wednesday 29 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে না’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪

প্রবর্তক মোড়ে পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম শুষ্ক মৌসুমে যেরকম থাকে সেরকমই আছে। প্রবর্তক মোড়ের এখানে খাল নির্মাণের কারণে একটু জলাবদ্ধতা হয়েছিল। এখন নিষ্কাশন হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রবর্তক মোড়ের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পুরনো জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হয়। এর মধ্যে প্রবর্তক মোড় ও আশেপাশের এলাকায় পানি ছিল সবচেয়ে বেশি। এর পর বুধবারও বৃষ্টির মধ্যে দুপুরের পর নগরীর প্রবর্তক মোড় ঘিরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তার আগে সোমবারও ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে নগরবাসী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এর পর বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এসে ওই এলাকা ঘুরে দেখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রথমত, আমি মিডিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আপনারা যেভাবে নিউজটি করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে- চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে।’

‘আমি চট্টগ্রাম এসে ঘূরে দেখলাম সন্ধ্যার পর থেকে। চট্টগ্রাম শহর পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম শহর সুন্দর আছে। যেরকম ছিল সেরকমই আছে। হঠাৎ করে অতি বৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমা পড়লেও সঠিক সময়ে পানিটা নিষ্কাশন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘৬০ কিলোমিটার আয়তনের একটা সিটি করপোরেশন। প্রবর্তক মোড়ে আমরা পানির মধ্যে যতটুকু পায়ে হাঁটলাম এটা ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা। এক গোছা পানি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে যতটুকু দেখলাম, বুঝলাম, শুনলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, দু’জন আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন সরেজমিনে এসে দেখবার জন্য। আমি এসে দেখলাম- চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেরকম থাকে সেরকমই আছে।’

মীর শাহে আলম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা ও জনগণের প্রতি দরদ থেকে এই ছোট্ট একটি ঘটনার জন্য মহান সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর পরে আমার আর কিছু বলার আছে বলে মনে করি না।’

‘আমি এখনই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিং করব। আগামী দিনগুলোতে ও বর্ষা মৌসুমে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, চট্টগ্রাম নগরবাসী যাতে স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।’

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের অনেকগুলো খালের মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কারের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিডিএ’র ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানপাওয়ারের ঘাটতি থাকার কারণে তারা সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন শুরু করে।’

‘২০১৬ সালের প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০১৯ সালে শেষ না হওয়ায় এটার সময় বর্ধিত হয়ে ২০২২ সাল হয়। তখনও সমাপ্ত না হওয়ায় এটি ২০২৪ সাল হয়। তখনও শেষ না হওয়ায় বর্ধিত হয়ে ২০২৬ সাল হয়। সময়ে সময়ে টাকার পরিমাণও বেড়েছে।’

৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশিষ্ট ছয়টি খালের মধ্যে পাঁচটির কাজ এমন পর্যায়ে আছে সেটি পানিকে খুব একটা বিঘ্ন ঘটাবে না। আর এই হিজড়া খাল একটি।’

নগরবাসীর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নগরীতে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে। সিডিএ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ওয়াসা আমাদের অধীনে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু খাল রয়েছে।’

‘সাধারণ মানুষ চিনে একটা ব্যক্তিকে- মেয়র। জলাবদ্ধতা হলে কে- মেয়র। ওয়াসার কোনো প্রবলেম হলে মেয়র। সিডিএর সমস্যা এটার জন্যও দায়ী মেয়র। সামান্য কষ্ট যেটুকু মানুষ পেয়েছে এটার জন্য কাজ করছে সিডিএ। আমি তাদেরকেও দায়ী করতে চাই না। তারা মনে করেছে, ১৫ মে এটা অপসারণ করলে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন এবং সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কর্মকর্তারা।