Tuesday 02 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী চীনা প্রতিষ্ঠান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ জুন ২০২৬ ২২:৫৬ | আপডেট: ২ জুন ২০২৬ ২৩:০৪

চট্টগ্রামে আবর্জনা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী চীনা প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের সিভিয়া-চায়না হার্বার-অর্চার্ড কনসোর্টিয়াম। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চট্টগ্রামের আবর্জনা থেকে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রস্তাব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের টাইগারপাস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং কনসোর্টিয়ামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চায়না হার্বার বাংলাদেশের প্রধান, সিভিয়ার দক্ষিণ এশিয়া ডিভিশনের প্রধান এবং অর্চার্ড ডেভেলপারস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের প্রধান।

বিজ্ঞাপন

সভায় প্রতিনিধি দল জানায়, চীনে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং এরই মধ্যে তারা ৪১টি আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করেছে। এসব প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে।

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম একটি বন্দরনগরী ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশের জন্য বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। চট্টগ্রামেও সেই আধুনিক ধারণা বাস্তবায়নের সময় এসেছে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘বর্তমান নগর ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নগরীর পরিবেশগত চাপ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। এটি নগর ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নগরীর সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং নগরবাসীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

সভায় উভয়পক্ষ সম্ভাব্য প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত কারিগরি ও সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।