ঢাকা: রাজধানীর নয়াপল্টনে শারমিন একাডেমিতে এক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পল্টন থানার পুলিশ। তিনি শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী।
ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হোসেন মো. ফারাবি বলেন, পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং আরেক আসামি শারমিন জাহানকে গ্রেফতারেও অভিযান চালানো হচ্ছে। শিশু অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০১৩-এর ধারা ৭০ অনুযায়ী পবিত্র বড়ুয়া ও শারমিন জামানের নামে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী একটি চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে ইউনিফর্ম পরে অফিসের ভিতরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং সোফায় বসিয়ে তাকে বারবার চড় মারছেন ও বকাঝকা করছেন। ডেস্কে বসে থাকা এক ব্যক্তি, তিনিও একজন শিক্ষক বলে জানা গেছে, একটি স্ট্যাপলার নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং শিশুটির মুখ স্ট্যাপলার দিয়ে আটকে দেওয়ার হুমকি দেন।

বাচ্চাটিকে মারধরের দৃশ্য ভিডিও থেকে সংগৃহীত।
১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি নামের একটি স্কুলে একটি শিশুকে নির্যাতন করা হয়। শিশুটি স্কুলে প্রি–প্লে শ্রেণিতে পড়ত। তার বয়স চার বছরের কম। সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে অত্যন্ত আতঙ্কিত দেখা গেলেও ওই নারীকে হাসতে দেখা যায়, যা অনলাইনে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তুলেছে।
মাত্র সাত দিন আগে শারমিন একাডেমিতে ভর্তি হওয়া ওই শিক্ষার্থী তার মায়ের কাছে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছে। মা জানান, এই ঘটনার পর থেকে তার সন্তান গুরুতর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, আমার বাচ্চা ঘুমের মধ্যেও কেঁদে উঠছে এবং বারবার বলছে- মা, আমার মুখ সেলাই করে দিও না। আমি কিছু করিনি। আমি এখানে থাকতে চাই না।