Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শিশু বায়জিদকে বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা: এসআরবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:০৮

ঢাকা: রাজধানীর রূপনগর থেকে অপহৃত ৬ বছরের শিশু বায়জিদকে ১৮ দিন পর গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে এসআরবি-৪। মূলত অপহরণের পর শিশুটিকে একাধিক জায়গায় বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে এসআরবি-৪ সদর দফতরে আয়োজিত ‘অপহরণের ১৮ দিন পর ৬ বছরের শিশু বায়জিদকে উদ্ধার’ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, টহলরত পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজীপুরের আদর্শনগরে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে দেয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকেই আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু বায়জিদ অপহৃত হয়। ঘটনার পর বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪ এর একটি দল।

তিনি বলেন, তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অপহরণের পর শিশুটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে স্কয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিনকে শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, শিশুটির বাবা রফিকুল ইসলামের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমের মেয়ে নাসরিন কয়েক দিন ধরে ওই বাসায় অবস্থান করছিল। নাসরিন একটি শিশু চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। পরে লিপির সঙ্গে মিলে শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাজীপুর নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় কুলসুমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক বলেন, বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তের মাধ্যমে গতকাল শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের দত্তপাড়ায় সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের (বালক শাখা) থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও তদন্তে জানা যায়, নাসরিন ও লিপি তাকে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিক্রি করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয় থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে ওই শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে আসে। সেখানেই এতদিন শিশুটি অবস্থান করছিল।

এদিকে মামলার এজাহারে জানা যায়, শিশুটির বাবা রিকশাচালক এবং মা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটির মা তাকে ও তার বাবাকে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে কাজে বেরিয়ে যান। পরে দুপুরে শিশুটির বাবা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, বায়জিদ বাসায় নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে রূপনগর থানায় মামলা করেন তিনি। আর শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর