রাবি: শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে মৌলক ধারণা প্রদান, ব্যাবহারিক প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)“ওয়ার্কশপ অন এআই ফর স্টুডেন্টস” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বিজ্ঞান ভবনের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের গ্যালারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তথ্য ও গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘লার্ন, ইউজ অ্যান্ড সেভ দ্য ফিউচার’। এতে শিক্ষার্থীদের এআই-এর মৌলিক ধারণা, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এআই-এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কর্মশালার প্রশিক্ষক শৌরভ বড়ুয়া (কো-ফাউন্ডার ও সিইও, OSTAD) বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীল চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে এআই ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায় না। বর্তমানে প্রায় সব ধরনের কাজেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। চ্যাটজিপিটি-এর মাধ্যমে ছবি তৈরি, প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত, স্প্রেডশিট ব্যবস্থাপনা সহ নানা কাজ খুব সহজে করা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যদি সঠিকভাবে এআই ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে তারা ভবিষ্যতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এ জি এস সালমান সাব্বির বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই এআই সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে, যাতে তারা আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি. এম. নাজমুছ সাকিব বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এ বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাকসু তথ্য ও গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে আজকের এই প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন ও দক্ষ করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উক্ত কর্মশালাটি আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তথ্য ও গবেষণা বিভাগ এবং সহযোগিতায় ছিল OSTAD Online Platform। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।