জাবি: ‘বাংলাদেশের সুর: মাটি ও মানুষ’—এই স্লোগানকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাহাঙ্গীরনগর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-ভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলা থিয়েটার’ এই উৎসবের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই উৎসবের পর্দা নামে। উৎসবের ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম।
উৎসবে তরুণ ও প্রবীণ চলচ্চিত্রকারদের শর্ট ফিল্ম ও ফিচার ফিল্ম প্রদর্শনীর পাশাপাশি চলচ্চিত্র বিষয়ে আগ্রহী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য স্বনামধন্য নির্মাতাদের পরিচালনায় চারটি মাস্টারক্লাস এবং ‘আওয়ার স্টোরিজ’ শীর্ষক মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ টিমের সদস্যরা দর্শকদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল চারুকলা বিভাগের সহায়তায় নির্মিত বিশেষ সম্মাননা ‘ইথিরিয়াল ব্লুম’ (Ethereal Bloom) প্রদান। চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে মরণোত্তর সম্মাননাসহ জাবির সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৮ জন নির্মাতা, শিল্পী ও সংগঠককে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত জাবি শিক্ষার্থীদের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইনতেজার: প্রথম প্রহর’ বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, প্রক্টরসহ ‘সাঁতাও’, ‘জ্বীনের বাচ্চা’ ও ‘কাজলরেখা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা এবং কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসব আয়োজন সম্পর্কে ফেস্টিভ্যালের সহকারী চিফ অর্গানাইজার গোলাম ফারুক জয় বলেন, ‘এ ধরনের উৎসব আমাদের সবসময় আনন্দ যোগায়, নতুন কোনো কিছু সৃষ্টির অনুপ্রেরণা দেয়। শিল্পকে ধরে রাখা ও সাধারণ মানুষদের কাছে সহজলভ্য করার যে প্রয়াস, তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ যে কোনো ধরনের শিল্প প্রচারে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ আমাদের এত সুন্দর আয়োজনের সঙ্গী হওয়ার জন্য।’
উৎসব আয়োজনের লক্ষ্য সম্পর্কে ফেস্টিভ্যালের চিফ অর্গানাইজার মেহরাব সিফাত বলেন, ‘শিল্পকে শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ না রেখে সব মাধ্যমকে সংযুক্ত করা এবং থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের মধ্যকার বিভেদ মুছে ফেলাই মূল উদ্দেশ্য। শিল্পকে শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে যে সাড়া পেয়েছি, আগামীতে আরও দীর্ঘদিনের জন্য এ ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজন করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
এ ছাড়াও, তিনি প্রথম আসর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ফেস্টিভ্যালের আহ্বায়ক এইচ. এম. ফজলে রাব্বি এবং বাংলা থিয়েটারের সভাপতি জেমিমা জেরিন রাইমাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।