ঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই গতি অব্যাহত থাকলে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স সংগ্রহ নতুন রেকর্ড গড়ে ৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২০৪ কোটি (২.০৪ বিলিয়ন) ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ অঙ্ক ৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি। ২০২৫ সালের জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ একক মাসের রেমিট্যান্স ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চে— ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলার, যা ঈদকে কেন্দ্র করে এসেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলার। তবে চলতি জানুয়ারিতে প্রথম ১৮ দিনের গড় হিসাবে দৈনিক রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ কোটি ডলার। এ হিসেবে ৩১ দিনের মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩৫১ কোটি ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা একক মাসে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক নীতিগত পদক্ষেপ, হুন্ডি কার্যক্রমের দমন এবং খোলাবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাংকিং রেট- এসবের ফলে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রেমিট্যান্স বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের পরিবর্তনের পর হুন্ডি কারবার কমে আসায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরদার হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জানুয়ারি মাসের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।’