ঢাকা: রাজনৈতিক সরকার এলে দেশের অর্থনীতি ভালো হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলনে, আইএমএফের ঋণ ছাড়াও ভালো করছে বাংলাদেশ। রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রফতানির আয়ের অবস্থা ভলো। তবে মূল্যস্ফীতি আরও কমাতে হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সিস্টেমেটিক এফোর্টস টু আন্ডারস্ট্যান্ড ইকোনমিক পালস: ইম্পর্টেন্স অব পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স (পিএমআই)’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ সব কথা বলেন। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) আয়োজনে সেমিনারে ডিসেম্বরের ‘পিএমআই’ সূচক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান। সেমিনারে আরও বক্তৃতা করেন ব্রিটিশ হাইকমিশন অব বাংলাদেশ-এর ডেপুটি হাই কমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।
ড. আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘চলতি মাসে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বেশি। দেশের বৈদেশিক খাতে বড় অগ্রগতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দাম কমায় আমদানিতে চাপ কমেছে। যদিও আমদানি মূল্য কিছুটা বেড়েছে, আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’
তিনি জানান, আগে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট ছিল। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমানত প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগামীতে আমানত প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, কৃষি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ফলে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি সামান্য সম্প্রসারণ হয়েছে। অর্থনীতি সম্প্রসারণের পেছনে কৃষি খাতের পাশাপাশি , উৎপাদন এবং সেবা খাতও অবদান রেখেছে। তবে নির্মাণ খাত ছিল নেতিবাচক। তাই সার্বিকভাবে সম্প্রসারণ বজায় থাকলেও প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে ধীর হয়েছে।
এমসিসিআই জানায়, নির্মাণ খাত ছাড়া সব প্রধান খাতে সম্প্রসারণ ও প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। সংগঠনটি বলছে, ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) শূন্য দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪ দশমিক ২ হয়েছে, যা অর্থনীতিতে সামান্য দ্রুততর সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।
সূচকে জানানো হয়, এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি ছিল কৃষি, উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) ও সেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ। এর মধ্যে কৃষি খাত টানা চতুর্থ মাসের মতো সম্প্রসারণে রয়েছে এবং এ মাসে গতি আরও বেড়েছে। নতুন ব্যবসা, সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান ও ইনপুট ব্যয় সূচকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
সংগঠনটি বলছে, উৎপাদন খাত টানা ১৬তম মাসের মতো সম্প্রসারণে থাকলেও প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রফতানি, কারখানা উৎপাদন, ইনপুট ক্রয়, আমদানি, ইনপুট মূল্য, কর্মসংস্থান ও সরবরাহকারী ডেলিভারি—সবগুলো সূচকেই সম্প্রসারণ বজায় ছিল।