Thursday 11 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাজেটের অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১০ খাত

‎‎স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ জুন ২০২৬ ১৬:০৭ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৬:৪৪

ঢাকা: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকার ১০টি প্রধান খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই এবারের বাজেটে জনকল্যাণ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সুশাসনকে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
  • সবার জন্য উন্নয়ন

আমাদের লক্ষ্য সর্বজনের, সর্বশ্রেণীর, সর্বখাতের এবং সকল অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

  • সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা

সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবমুখী, দক্ষতা-নির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদে পরিণত করা। পাশাপাশি সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

  •  সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা

সকল বয়স ও শ্রেণির নাগরিকের জন্য জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।

  • বিনিয়োগ-নির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি

পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা। কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

  • বিনিয়ন্ত্রণকরণ (Deregulation) এবং সাশ্রয়ী ও সহজিকৃত ব্যবসার পরিবেশ

সরকারি কাজে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা।

  • আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা।

  •  জ্বালানি নিরাপত্তা

উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

  •  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ

প্রযুক্তিগতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলে দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত করা।

  • প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।

  • স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এটি প্রথম জাতীয় বাজেট।

সারাবাংলা/টিএম/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর