Thursday 11 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১১ জুন ২০২৬ ১৭:৩১

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ঢাকা: নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ও উচ্চগতির রেল সংযোগ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং বন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্দেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেলপথকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজনের (অ্যাসেম্বলিং) কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ও উচ্চগতির রেল সংযোগ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে একটি কর্ডলাইন নির্মাণ করা হবে। এর ফলে এ রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি দেন। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর