Tuesday 03 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুতে নতুন নির্দেশনা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:১০

ঢাকা: বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু, লভ্যাংশ প্রদান, শেয়ার রূপান্তর ও বিনিয়োগের অর্থ ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো কোম্পানি অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার শেয়ারের বিপরীতে অভিহিত মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ নির্ধারণ করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে না। তবে এর বেশি লভ্যাংশ নির্ধারণ করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ (এফইআইডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে পরিচালিত যেকোনো আবাসিক কোম্পানি অনাবাসী বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রযোজ্য বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধির শর্ত পরিপালন করতে হবে।

প্রেফারেন্স শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগের অর্থ অবশ্যই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশে আনতে হবে। এ ধরনের শেয়ার ইস্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও অনাবাসী বিনিয়োগকারীর মধ্যে একটি সাবস্ক্রিপশন চুক্তি করতে হবে। যেখানে শেয়ারের সংখ্যা, অভিহিত মূল্য, ইস্যুমূল্য, লভ্যাংশের হার এবং শেয়ারের মেয়াদ, অবসায়ন ও সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হলে তা গ্রহণ করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রেফারেন্স শেয়ারের লভ্যাংশের হার অভিহিত মূল্যের ৫ শতাংশের বেশি না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তবে এর বেশি লভ্যাংশ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুমোদন নিতে হবে। অংশগ্রহণমূলক (পার্টিসিপেটিং) অথবা পরিবর্তনশীল (অ্যাডজাস্টেবল) লভ্যাংশের হারসংবলিত প্রেফারেন্স শেয়ারের ক্ষেত্রেও অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

এ জন্য প্রস্তাবিত লভ্যাংশের হারের যৌক্তিকতাসহ মনোনীত এডি ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে আবেদন করতে হবে।
প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর পর সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

প্রতিবেদনের সঙ্গে কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) অনুমোদিত ফরম-১৫ বা শেয়ার বরাদ্দের রিটার্ন, নির্ধারিত ফরম্যাটে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট এবং অনলাইন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের পরিচিতি নম্বর জমা দিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিডিউল-এক্সও জমা দিতে হবে।

নতুন নির্দেশনায় প্রেফারেন্স শেয়ার অভিহিত মূল্যে ইস্যু করার কথা বলা হয়েছে। ফলে এসব শেয়ার ইস্যু বা অবসায়নের ক্ষেত্রে কোম্পানির মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হবে না। তবে প্রেফারেন্স শেয়ারে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সুবিধা থাকলে রূপান্তরের অনুপাত নির্ধারণের জন্য সাধারণ শেয়ারের ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইআইডি সার্কুলার নম্বর ০১-এ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

প্রেফারেন্স শেয়ার সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশিকার ২০১৮ সালের সংস্করণের প্রথম খণ্ডের নবম অধ্যায়ের ২(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
সার্কুলারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও বিনিয়োগের মূলধন ফেরত নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করা হলে প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান এবং কর পরিশোধের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এডি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও শেয়ার অবসায়নের অর্থ পাঠাতে পারবে।

তবে অবসায়নের অর্থ কিস্তিতে পাঠানো হলে প্রতিটি কিস্তির অর্থ পাঠানোর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে পরবর্তী প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে অনলাইন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের পরিচিতি নম্বরসংবলিত টিএম ফরমসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে মূল বিনিয়োগের অর্থ বাংলাদেশে এসেছিল, সেই ব্যাংকের মাধ্যমেই লভ্যাংশ ও অবসায়নের অর্থ বিদেশে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে বছরভিত্তিক লভ্যাংশ ও অবসায়নের অর্থ ফেরত পাঠানোর হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, যে দেশ থেকে মূল বিনিয়োগের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, সেই দেশেই সংশ্লিষ্ট অনাবাসী বিনিয়োগকারীর কাছে লভ্যাংশ ও অবসায়নের অর্থ ফেরত পাঠাতে হবে।

প্রেফারেন্স শেয়ারের কোনো কিস্তির নির্ধারিত পরিশোধের তারিখ পার হয়ে গেলে কিংবা শেয়ারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মূলধন বা জমা হওয়া লভ্যাংশের কোনো অংশ বিদেশে পাঠানো না হলে, অনাদায়ী অর্থের ওপর অতিরিক্ত কোনো সুদ বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না কিংবা দাবি করা যাবে না।

তবে প্রেফারেন্স শেয়ারের বিপরীতে অর্জিত লভ্যাংশ একই কোম্পানি অথবা অন্য কোনো কোম্পানির সাধারণ শেয়ারে পুনর্বিনিয়োগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাধারণ শেয়ারের ন্যায্য বাজারমূল্য বিবেচনায় নিতে হবে।

লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে করসংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) এবং বিদেশে পাঠানোর যোগ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণসংক্রান্ত নিরীক্ষকের সনদ সংরক্ষণ করতে হবে। দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির (ডিটিএএ) আওতায় কর সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রয়োজনীয় সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্রও সংশ্লিষ্ট ফাইলে রাখতে হবে। এসব নথি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা চাইলে পরিদর্শনের জন্য সহজলভ্য রাখতে হবে।

এ ছাড়া কোনো কোম্পানি মনোনীত এডি ব্যাংক পরিবর্তন করতে চাইলে আগের ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে। আগের ব্যাংকে সংরক্ষিত লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানোর যাবতীয় নথি নতুন ব্যাংকে হস্তান্তর করতে হবে। ব্যাংক পরিবর্তনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককেও জানাতে হবে।

প্রেফারেন্স শেয়ার অবসায়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কিস্তি পরিশোধের আগে এবং পরিশোধের পর—দুই পর্যায়েই শিডিউল-এক্সের দুটি কপি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে জমা দিতে হবে। প্রথমটি চূড়ান্ত কিস্তি পরিশোধের ঠিক আগে এবং দ্বিতীয়টি অর্থ পরিশোধের পর জমা দিতে হবে। দ্বিতীয় শিডিউল-এক্সে প্রেফারেন্স শেয়ারধারীদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত থাকতে হবে। একই সঙ্গে উভয় সময়ের সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিবরণীও জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্পূর্ণ রূপান্তরযোগ্য এবং অবসায়ন-অযোগ্য প্রেফারেন্স শেয়ারকে ইকুইটি মূলধন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি এ ধরনের বিনিয়োগ গ্রহণ ও অর্থ ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি, অর্থপাচার প্রতিরোধ (এএমএল), সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (সিএফটি), কর আইন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর