Sunday 17 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিটিআরসির মনোপলি ভাঙতে হবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ মে ২০২৬ ১৬:৪৬ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ১৭:১৬

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: সারাবাংলা।

ঢাকা: বিটিআরসিতে আর কেউ যেন মনোপলি করতে না পারে উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ‘আমি শুনেছি এখানে কাউকে কাজ করতে দেওয়া হয় না। এই মনোপলি যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।’

রোববার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রধান সম্মেলন কক্ষে তিনি এ কথা বলেন।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী টেলিকম মেলা ও সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিজ্ঞাপন

এম রশিদুজ্জামান বলেন, ‘বিটিআরসির অনেকগুলো প্রবলেম ছিল, যেটা আমি শুনেছি। একটি কোম্পানিকে সবগুলো টায়ার দেওয়া হয়েছে। ইট হ্যাজ টুবি বি সেগমেন্টেড। এটা কাউকে কাউকে ভাগ করে দেওয়া উচিত। যাতে একজন মনোপলি করে কিছু না করতে পারে। দিস ইজ টেকনিক্যালি কারেক্ট অর নট, আই অ্যাম নট আন্ডারস্ট্যান্ড। বাট আমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যেটা শুনেছি যে, কাউকে কোনো কিছু করতে দেওয়া হচ্ছে না। হোপফুলি, মি. রেহান (প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা) এবং মন্ত্রী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী) আপনারা এটাকে অ্যাড্রেস করতে পারবেন। আমাদের খুব যোগ্য মেজর জেনারেল বারী এখানে (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন, তিনি অত্যন্ত যোগ্য বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে এসে তার (বিটিআরসির চেয়ারম্যান) যে বক্তব্য শুনলাম, ফ্রম দ্য বিগিনিং ট্রান্সফরমেশন কেমনে হয়েছে সব তিনি বর্ণনা করলেন। কাজেই এই বিটিআরসি আগের মতো না থেকে এটা যেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রসার লাভ করে। পাঁচ বছরের মধ্যে যে গোল এচিভ করার জন্য মাননীয় উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বাস দিলেন, সেটা যাতে পূর্ণ হয় এই আশা আমি ব্যক্ত করছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের যারা অপারেটরস আছেন তাদের সঙ্গে যাতে একটা গুড বন্ডনেস থাকে, রিলেশনস থাকে। বিটিআরসির সঙ্গে যারা যুক্ত অপারেটরস আছেন তাদের সঙ্গে যাতে এরকম একটা বন্ধন থাকে যে ‘উইন উইন সিচুয়েশনে’ সবাই মিলে কাজ করছি, বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। এটাই হোক আজকের কামনা।’

মঞ্চে উপস্থিত সমবায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের কাজের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান বলেন, ‘কালকেই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। একটি ক্লিকে ১৫ হাজার ফ্যামিলি কার্ডে টাকা চলে গেছে। দ্যাট ইজ অলসো আ টেকনোলজি। বিফোর দে হ্যাভ ডান থার্টি সেভেল থাউজ্যান্ড (ফ্যামিলি কার্ড) অ্যান্ড নাউ ফিফটিন থাউজেন্ড। এটার সঙ্গেও বিটিআরসি জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘আমি আজকে এখানে এসেছি কারণ আমার যে মন্ত্রণালয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের  মধ্যে যে বিমানবন্দরগুলো পড়ে। এই বিমানবন্দরগুলোতে আজকে ওয়াইফাই যুক্ত হবে। সো আই অ্যাম ভেরি ভেরি হ্যাপি, যে আমার বিমানবন্দরগুলো আজকে ওয়াইফাই যুক্ত হবে, শুধু ঢাকা না চট্টগ্রাম, সিলেটসহ সবগুলো। আপনারা জানেন আমরা থার্ড টার্মিনাল (ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল) উদ্বোধন করছি, যার যার সেগমেন্ট প্রধানমন্ত্রী ভাগ করে দিয়েছেন। যার যার জায়গায় সে সে যদি ঠিকভাবে কাজ করে। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি প্রাঙ্গণে ১৭ ও ১৮ মে দুই দিনব্যাপী টেলিকম মেলার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগডান-মার্টিন বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, বরং মানবিক সহনশীলতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।