Sunday 11 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভেনেজুয়েলার তেলের রাজস্ব জব্দ ঠেকাতে নির্বাহী আদেশ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০০

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির বিপরীতে মার্কিন ট্রেজারি অ্যাকাউন্টে রক্ষিত রাজস্ব আদালত বা ঋণদাতারা যেন জব্দ করতে না পারে সে লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস জানায়, এই জরুরি আদেশের মাধ্যমে বিদেশি সরকারি আমানত তহবিলে সংরক্ষিত ভেনেজুয়েলার তেল রাজস্বকে সার্বভৌম সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, এসব অর্থ ভেনেজুয়েলায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে শুক্রবার এ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির বড় অঙ্কের পাওনা দাবি রয়েছে। এর মধ্যে এক্সন মবিল ও কনোকোফিলিপস উল্লেখযোগ্য, যারা প্রায় দুই দশক আগে সম্পদ জাতীয়করণের পর দেশটি ছাড়ে। দুটি কোম্পানিরই ভেনেজুয়েলার কাছে বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে।

কনোকোফিলিপসের প্রধান নির্বাহী রায়ান ল্যান্স শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেন, মার্কিন সরকারের কাছে কোম্পানিটির হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। এ সময় ট্রাম্প বলেন, কনোকোফিলিপস তার অনেক অর্থ ফেরত পাবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কার স্লেট থেকে শুরু করতে চায়।

ল্যান্স জানান, তার কোম্পানির প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “ভালো, ভালোভাবে ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।”

শনিবারের আদেশে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এসব অর্থ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম সম্পত্তি, যা সরকারি ও কূটনৈতিক উদ্দেশ্যে মার্কিন হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এটি ব্যক্তিগত দাবির আওতাভুক্ত নয়।

হোয়াইট হাউসের এক তথ্যপত্রে বলা হয়, “ভেনেজুয়েলার তেল রাজস্ব জব্দ করা হলে দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এ কারণেই এই পদক্ষেপ।”

এদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পেতে পারে, যা পরিশোধনের জন্য দেশটির একাধিক শোধনাগার বিশেষভাবে প্রস্তুত।

এই নির্বাহী আদেশের আইনি ভিত্তি হিসেবে ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) এবং ১৯৭৬ সালের জাতীয় জরুরি আইন উল্লেখ করেছেন।

সারাবাংলা/এমপি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর