গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের মুখে দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে সামরিক সেনা পাঠাতে শুরু করেছে ডেনমার্ক ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা। খবর রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তাদের সামরিক কর্মীদের গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি যৌথ মহড়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করা যে ডেনমার্ক নিজেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে চলমান বিরোধের কোনো দ্রুত সমাধান আসেনি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল করার আমেরিকান উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট রয়েছে। তিনি একে একটি মৌলিক মতপার্থক্য হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডেনমার্ক তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং খনিজ সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি মার্কিন নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক। তার মতে, রাশিয়া বা চীন যাতে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের এটি নিজের দখলে নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক এই অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকানোর সক্ষমতা রাখে না।
অন্যদিকে, রাশিয়া ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে ‘ভীতি ছড়ানোর কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আর্টিক (উত্তর মেরু) অঞ্চলে রাশিয়ার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো প্রচেষ্টার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ড দখল করার চেষ্টা করে, তবে সেটি ‘ন্যাটো’ (NATO)-এর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন ফেসবুকে জানিয়েছেন, দ্বীপটি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের শাসনে যেতে চায় না। এটি ডেনমার্ক এবং ন্যাটোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই থাকবে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক একটি বিশেষ ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।